জ্ঞান উত্তম না সম্পদ?

হযরত আলী কারামাল্লাহু ওয়াজহু রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর চমৎকার জবাব!
বেশ কিছু মুনাফিক এরকম একটা পরিকল্পনা করে মসজিদে প্রবেশ করল যে, যে কোন মূল্যে আজ হযরত আলী (আঃ) কে জনসম্মুখে হেয় বা হীন করতে হবেই হবে ! তারা পরিকল্পনা করেছে সবাই একে একে মসজিদে প্রবেশ করে আমিরুল মু’মেনীনকে একই প্রশ্ন করবে, তিনি এর উত্তর একই দেন নাকি ভিন্ন ভিন্ন তা দেখা তাদের শখ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাকে জ্ঞানের তোরণ বলে আখ্যায়িত করেছেন তাঁর জ্ঞানের পরীক্ষা নিতে চায় একদল লোক! তারা প্রশ্ন করতে লাগলো জ্ঞান ও সম্পদের মধ্যে কোনটি উত্তম ?
উত্তরে আলী (আঃ) বললেনঃ
* প্রথমঃ জ্ঞান হচ্ছে উত্তম । কেননা জ্ঞান হচ্ছে নবীদের মি’রাসী সম্পদ আর ধন -সম্পদ হচ্ছে কারুন, ফেরাউন , হামান ও শাদ্দাদের মি’রাসী সম্পদ ।
* দ্বিতীয়ঃ জ্ঞান হচ্ছে উত্তম । কেননা জ্ঞান তোমাকে রক্ষা করবে, কিন্তু ধন -সম্পদকে তুমি রক্ষা করতে বাধ্য।
* তৃতীয়ঃ জ্ঞান হচ্ছে উত্তম । কেননা জ্ঞানী ব্যক্তির অনেক বন্ধু রয়েছে, কিন্তু ধনী ও সম্পদশালী ব্যক্তির শত্রু হচ্ছে বেশি ।
* চতুর্থঃ জ্ঞান হচ্ছে উত্তম । কেননা যদি সম্পদ হতে তুমি ব্যয় কর তা কমতে থাকবে । কিন্তু যদি জ্ঞান হতে কাউকে শিক্ষা দান কর তা বৃদ্ধি পাবে ।
* পঞ্চমঃ জ্ঞান হচ্ছে উত্তম । কেননা জনগণ ধনী ও সম্পদশালী ব্যক্তিকে কৃপণ মনে করে, কিন্তু আলেম ও জ্ঞানী ব্যক্তিকে মহৎ ও সম্মানী মনে করে ।
* ষষ্ঠঃ জ্ঞান হচ্ছে উত্তম । কেননা ধন সম্পদকে চোর চুরি করে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু জ্ঞান চুরি হওয়া সম্পর্কে কোন ভয়ভীতি নেই ।
* সপ্তমঃ জ্ঞান হচ্ছে উত্তম । কেননা সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে সম্পদও পুরোনো হয়ে যায় কিন্তু সময় অতিবাহিত হবার সাথে সাথে জ্ঞান পুরোনো বা নষ্ট হয় না বরং তা আরও শানিত হতে থাকে ।
* অষ্টমঃ জ্ঞান হচ্ছে উত্তম । কেননা ধন -সম্পদ শুধুমাত্র মৃত্যু পর্যন্ত তার মালিকের সাথে থাকে । কিন্তু জ্ঞান, এ পৃথিবীতে এবং মৃত্যুর পরও মানুষের সাথে থাকে ।
* নবমঃ জ্ঞান হচ্ছে উত্তম । কেননা ধন -সম্পদ মানুষকে নিষ্ঠুর করে দেয়, কিন্তু জ্ঞান মানুষের মনকে আলোকিত করে দেয় ।
* দশমঃ জ্ঞান হচ্ছে উত্তম । কেননা ধনী ও সম্পদশালী ব্যক্তিরা অহংকারী হয়, এমন কি কখনও প্রভু হওয়ার দাবীও করে বসে, কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তিরা সব সময় বিনয়ী হয় ।
এভাবে একই প্রশ্নের বিভিন্ন উত্তর শুনে জনগণের হৈ চৈ, হট্টগোল , খুশী ও প্রশংসাতে কিছু শোনা যাচ্ছিল না ।
প্রশ্নকারীরা আস্তে আস্তে চুপচাপ জনগণের মাঝখান থেকে উঠে চলে গেল ।
যখন তারা মসজিদ থেকে বের হয়ে যাচ্ছিল ইমামের (আঃ) আওয়াজ শুনতে পেল যে, তিনি বলছিলেন, যদি পৃথিবীর সকল লোক এই একটি প্রশ্নই আমার কাছে জিজ্ঞেস করতে থাকে, তাদের প্রত্যেককে আমি বিভিন্ন রকম উত্তর দিতাম ।

সংগ্রহ: আব্দুল বাতেন মিয়াজি
সূত্র – তাকরিবে মাযাহেব ।

Comments

comments