নগ্ন কথা : রউফুল আলম

আমেরিকার বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্র শেষ্ঠতম নয়। তবে মৌলিক বিষয়গুলোর চর্চা ওরা করে। তাই এদেশে প্রেসিডেন্ট শপথের দিন, ওয়াশিংটন জুড়ে সহস্র সহস্র নারী-পুরুষ প্রতিবাদ করে কিন্তু পুলিশ লাঠিপেটা করে না। গুলি করে না। সরকার, নির্বিচারে মানুষ মারার নির্দেশ দেয় না। বিরোধীদলের মানুষজনকে ঘরছাড়া করে না। জেলে ঢুকায় না। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট, হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পকে স্বাগত জানায়। হাত মেলায়। ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারী, স্বামী সহ উপস্থিত থাকে। এটা হলো সভ‍্যদের গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সভ‍্য আচরণ! তুমি আমি তর্ক করবো, রাজনীতি করবো, তবে নিয়মের কাজ নিয়ম মতো করে যাবো। ষাট ভাগ মানুষ পছন্দ না করলেও, রাষ্ট্রবিধি অনুযায়ী ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট। এটাই সত‍্য। সুতরাং এটা মেনে নিতে হবে। প্রতিবাদ থাকবে কিন্তু ট্রাম্পকে ক্ষমতা না দেয়ার ষড়যন্ত্র থাকবে না। জোড় জবরদস্তি চলবে না। সংবিধান কাঁটাছেঁড়া করবে না।
আমরা ক্ষমতা পেলে চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করি। স্বাধীন বাংলাদেশে কোন সরকার, বিরোধী দল বিষয়টাকে পছন্দ করেনি। সত‍্যিকারের গণতন্ত্র চায়নি। সমালোচনা সহ‍্য করেনি। সবাই চেয়েছে কী করে সারা জীবন ক্ষমতায় থাকা যায়। এতে যদি লক্ষ মানুষের প্রাণও যায়, তবে যাক! আইয়ূবী গণতন্ত্র, ইয়াহিয়ার গণতন্ত্র ছিলো এমন! আমরা সেই গণতন্ত্র থেকে বেরিয়ে এসে, সেটার চর্চাই করেছি। আমাদের প্রতিবেশী ভারতের কাছ থেকেও আমরা গণতন্ত্র শিখতে পারিনি।
জাতি হিসেবে আমরা চরম অগণতান্ত্রিক। গায়ের জোরই, আমাদের মূলমন্ত্র! গায়ের জোরে সরকার ক্ষমতায় থাকবে। গায়ের জোরওয়ালারা আমলা হবে। বিশ্ববিদ‍্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসিকে ঘুষি দিবে। পুলিশ, মানুষকে জন্তুর মতো পেটাবে। র‍্যাব সদস‍্য মানুষ খুন করবে। গায়ের জোরে, পুরুষ নারীকে ধর্ষণ করবে। জামাই, বৌকে পেটাবে। শিক্ষক, ছাত্রকে দেখে নেয়ার হুমকি দিবে।
মানুষের অধিকার বলে কিছু নেই। সর্বত্র শুধু গায়ের জোর।

সূত্র- ফেচবুক পেজ রউফুল আলম

Comments

comments