ইসলাম ধর্ম

মহান আল্লাহর মহাসৃষ্টি অলৌকিক জমজম কূপের অলৌকিক কিছু গুন

ইসলামের ইতিহাসে জমজম কুয়ার উৎপত্তি নিয়ে বর্ণনা রয়েছে। নবী ইবরাহিম (আ) তার দ্বিতীয় স্ত্রী হাজেরা (আ) ও শিশুপুত্র ইসমাইল (আ) কে আল্লাহর আদেশে মক্কার বিরান মরুভূমিতে রেখে আসেন। তার রেখে যাওয়া খাদ্য পানীয় শেষ হয়ে গেলে হাজেরা (আ) পানির সন্ধানে পার্শ্ববর্তী সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাতবার ছোটাছুটি করেছিলেন। এসময় ক্রন্দনরত শিশুপুত্র ইসমাইল (আ) এর পায়ের আঘাতে মাটি ফেটে পানির ধারে বেরিয়ে আসে। ফিরে এসে এই দৃশ্য দেখে হাজেরা (আ) পাথর দিয়ে পানির ধারা আবদ্ধ করলে তা কুয়ায় রূপ নেয়। এসময় হাজেরা (আ) পানিকে জমজম তথা থামো বলায় এর নাম জমজম হয়েছে। আরবি ভাষায় যমযম অর্থ অঢেল পানি আর তিবরানী ভাষায় জমজম অর্থ থাম্ থাম্।

হজ করতে যাওয়া হাজীগণ প্রতি বছর লাখ লাখ টন পানি পান করেন এবং সাথে নিয়েও আসেন। কিন্তু কোনদিন পানি ফুরিয়ে যায়নি বা শুখিয়ে যায়নি ।

১) আল্লাহ তা’লার অসীম কুদরতে ৪০০০ বছর পূর্বে সৃষ্টি হয়েছিল

২) যমযমের পানি একদিকে যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা উভয়টিই নিবারণ করে থাকে। অপরদিকে তেমনি পেটের হজম শক্তি বাড়িয়ে শরীরকে পুষ্ট ও বলিষ্ঠ করে তোলে।

৩) রসুলে করীম নিজে এ সম্বন্ধে বলেছেন, “এই পানি শুধু পানীয় নয়, বরং খাদ্যের অংশ এবং ইহাতে পুষ্টি রয়েছে।”

৪) জমজমের পানির মধ্যে সাধারন পানির তুলনায় ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম সামান্য বেশী।এ কারনেই হয়ত পরিশ্রান্ত হাজী সাহেবদের জমজমের পানি সতেজ ও সজীব করে তোলে।

৫) জমজমের পানিতে রয়েছে ফ্লোরাইড,ফ্লোরাইডে রয়েছে জীবানুনাশক ক্ষমতা।ইউরোপীয় গবেষনাগার থেকে মন্তব্য করা হয়েছে,জমজমের পানি পানের সম্পূর্ণ উপযুক্ত।

জমজম কুপ৬) ভারী মোটরের সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০ লিটার পানি উত্তোলন করার পরও পানি ঠিক সৃষ্টির সূচনাকালের ন্যায়।

৭) পানির স্বাদ পরিবর্তন হয়নি, জন্মায়নি কোন ছত্রাক বা শৈবাল।

৮) সারাদিন পানি উত্তোলন শেষে, মাত্র ১১ মিনিটেই আবার পূর্ণ হয়ে যায় কূপটি।

৯) এই কূপের পানি কখনও শুকায়নি, সৃষ্টির পর থেকে একই রকম আছে এর পানি প্রবাহ, এমনকি হজ্ব মউসুমে ব্যবহার ক’য়েক গুন বেড়ে যাওয়া সত্বেও এই পানির স্তর কখনও নিচে নামে না।

১০) সৃষ্টির পর থেকে এর গুনাগুন, স্বাদ ও এর মধ্যে বিভিন্ন উপাদান একই পরিমানে আছে।

১১) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জমজমের পানি পানের নিয়ম অনুযায়ী যে যেই নিয়তে পান করবে (নেক ইচ্ছা), তার সেই নিয়ত পূরণ হবে। যদি তুমি এই পানি রোগমুক্তির জন্য পান কর, তাহলে আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করবেন। যদি তুমি পিপাসা মেটানোর জন্য পান কর, তাহলে আল্লাহ তোমার পিপাসা দূর করবেন। যদি তুমি ক্ষুধা দূর করার উদ্দেশ্যে তা পান কর, তাহলে আল্লাহ তোমার ক্ষুধা দূর করে তৃপ্তি দান করবেন।

১২) এই কূপের পানি পৃথিবীর সমস্ত পানি থেকে স্বচ্ছ, উৎকৃষ্ট, পবিত্র ও বরকতময়। একমাত্র হাউসে কাওসারের পানির সঙ্গে ইহা তুলনীয়। এই পানিতে কোন প্রকার ময়লা, পোকা বা রোগ-জীবাণুর অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলে জানা যায়নি। এমনকি মাইক্রোস্কোপেও কোন রোগ-জীবাণু ধরা পড়েনি। এর বাস্তব প্রমাণ এই যে, এই পানি ভরা পেটে পান করেও কোন মানুষ কোনদিন রোগাক্রান্ত হয়নি।

এ কুয়া মহান আল্লাহর অলৌকিক ক্ষমতার এক মহান নিদর্শন। জাপানি অধ্যাপক মাসারু ইমোটো জমজম কুয়া সম্পর্কে তার গবেষণার কথা তুলে ধরে বলেছেন, ” জমজম কুয়ার পানির সমতুল্য কোনো পানি পৃথিবীতে নেই। বিশ্বের সব ধরণের পানির স্ফটিকের চেয়ে এই পানির স্ফটিকের গঠন ভিন্ন ধরণের। পরীক্ষায় দেখা গেছে, জম জম কুপের পানির বৈশিষ্ট্য অন্য সব পানির বৈশিষ্ট্যের চেয়ে ভিন্ন। যেমন, জমজমের পানি ছাড়া অন্য সব পানি দীর্ঘকাল আবদ্ধ অবস্থায় থাকলে ও পুরনো হতে থাকলে এসব পানির স্ফটিকের সুন্দর রূপ নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু জমজমের পানির স্ফটিক সহজেই তার সুন্দর রূপ হারায় না। এ ছাড়াও পরীক্ষায় দেখা গেছে, জমজমের পানির মাত্র এক ফোটা এক হাজার ফোটা সাধারণ পানিতে মেশানো হলে সেসব পানিও জমজমের পানির বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। পরীক্ষাগারে সব ধরণের পরীক্ষা ও গবেষণা চালিয়েও এই পানির কোনো একটি বৈশিষ্ট্যও পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি।

Comments

comments