লন্ডন হামলায় হয়েছিল ব্যাপক পরিকল্পনা

সন্ত্রাসী খালিদ মাসুদ একা লন্ডনে হামলা চালায় নি। তার এ পরিকল্পনায় আরো মানুষ ছিল। তারা হামলার কলকাঠি নেড়েছে। এমনটা মনে করছেন লন্ডনের নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তারা। এ ছাড়া এ হামলা চালানোর মাত্র কয়েক মিনিট আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের ম্যাসেজ সার্ভিস ব্যবহার করে খালিদ মাসুদ। এ সব খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়, ওই হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আর্মড পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ১১ জনকে। এর মধ্যে রয়েছে একজন নারী। এর পরই বেরিয়ে এসেছে এ হামলার বিভিন্ন তথ্য। বলা হয়েছে, ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হওয়া খালিদ মাসুদ ও অন্যরা বড় ধরণের হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল। এ সব তথ্যকে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জব্দ করেছে তিনটি গাড়ি। তবে তারা এখন হামলাকারী মাসুদের অন্য সহযোগীদের খুঁজছে। তবে হামলার সময় তার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল কিনা সে বিষয়ে কোনো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায় নি। ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, খালিদ মানুষ যে কট্টরপন্থিদের সহযোগিতা করছে এ বিষয়টি আগেই জানতো গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫ এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের স্পেশাল ব্রাঞ্চ। নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, তবে সে সন্ত্রাসী কর্মকা- চালানোর পরিকল্পনা করছে এ বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। বলাবলি হচ্ছে, হামলাকারী ২০০৫ সালে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে সৌদি আরবে যায়। এ সময়েই সে উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তবে এর আগে সে সহিংস অপরাধের কারণে জেল খেটেছে। দ্বিতীয়বার জেল থেকে মুক্তি পায় ২০০৩ সালে। তারপর বিয়ে করে ধর্মান্তরিত এক মুসলিম নারী ফারজানা মালিককে। তবে সৌদি আরবেই খালিদ মাসুদ ইসলামপন্থি উগ্রবাদের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে বলে মনে করা হয়। সেখানে সে কি জঙ্গিদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছে কিনা এবং তারপর তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রক্ষা করেছিল কিনা তা পরীক্ষা করে দেখছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। মাসুদ ও ফারজানা দম্পতির রয়েছে তিনটি সন্তান। এ দম্পতির বিচ্ছেদ হয়ে গেছে আগেই।

Comments

comments